বিশ্ববাজারে তামার দাম আগামী বছরগুলোয় ব্যাপক হারে বাড়তে পারে বলে জানিয়েছে বহুজাতিক বিনিয়োগ ব্যাংক (ইউবিএস)। ব্যাংকটির পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৫ সালে তামার দাম গড়ে টনপ্রতি ১০ হাজার ৫০০ ডলার এবং ২০২৬ সালে ১১ হাজার ডলারে উন্নীত হতে পারে। খবর হেলেনিক শিপিং নিউজ ও রয়টার্স।
ইউবিএসের মতে, বিদ্যুৎ সঞ্চালনে তামার চাহিদা বাড়ছে। কিন্তু আগামী ৬-১২ মাসের মধ্যে ধাতবটির সরবরাহ কমে আসতে পারে। ২০২৫ সাল নাগাদ সরবরাহে দুই লাখ টনের বেশি ঘাটতি দেখা দিতে পারে।
তবে ইউবিএসের চায়না বেসিক ম্যাটেরিয়ালস বিভাগের প্রধান শ্যারন ডিং বলেছেন, আগামী দুই বছরে তামার দাম বাড়তে পারে। যদিও বাজার পরিস্থিতি সাপেক্ষে স্বল্পমেয়াদে দাম কিছুটা কমতে পারে।
তিনি আরো বলেন, ‘সামনের দিনগুলোয় নবায়নযোগ্য জ্বালানিচালিত যানবাহন, সৌর ও বায়ুশক্তি এবং চীনের গ্রিড অবকাঠামোয় তামার চাহিদা বাড়বে। এছাড়া কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ডাটা সেন্টার এবং প্রতিরক্ষা শিল্পেও ধাতুটির চাহিদা বাড়ছে।’
ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রেও তামার চাহিদা বাড়তে পারে। কারণ আর্থিক নীতি শিথিল করায় নির্মাণ, উৎপাদন ও ভোক্তাসামগ্রী খাতে বিনিয়োগের সুযোগ বাড়বে।
বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি চীনের রিয়েল এস্টেট খাতে দুর্বলতার প্রভাব কিছুটা কমে আসবে বলেও ধারণা করা হচ্ছে। দেশটির রিয়েল এস্টেট খাতে গতিহীনতার কারণে তামার চাহিদা কমে গিয়েছিল। কিন্তু অন্যান্য খাতে চাহিদা বাড়ায় তা পুষিয়ে নেয়া সম্ভব হবে।
তবে চলতি বছরের শেষের দিকে বা ২০২৫ সালের শুরুতে সরবরাহ কমে আসতে পারে। কারণ বেশির ভাগ তামা কারখানা ইতিহাসের সর্বনিম্ন কম ট্রিটমেন্ট চার্জের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। প্রসঙ্গত তামা পরিশোধনের জন্য খনি কোম্পানিগুলো কারখানাকে যে অর্থ প্রদান করে, তা-ই ট্রিটমেন্ট চার্জ। এ অর্থ তামার কারখানাগুলোর আয়ের অন্যতম প্রধান উৎস।
শ্যারন ডিংয়ের পূর্বাভাস, আগামী বছর নাগাদ চীনে অ্যালুমিনিয়াম এবং অ্যালুমিনার গড় দাম যথাক্রমে প্রতি টনে ১৯ হাজার ও ৩ হাজার ৬০০ ইউয়ান হতে পারে।
সাংহাই ফিউচারস এক্সচেঞ্জ (এসএইচএফই) অ্যালুমিনার ভবিষ্যৎ সরবরাহ চুক্তিমূল্য প্রতি টনে ৪ হাজার ৮৬৩ ইউয়ানে উন্নীত হয়। এছাড়া অ্যালুমিনিয়ামের দাম উঠেছিল টনপ্রতি ২০ হাজার ৭১০ ইউয়ানে।
সাম্প্রতিক সময়ে সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ায় অ্যালুমিনার দাম রেকর্ড উচ্চতায় উঠেছে। তবে ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি নাগাদ সরবরাহ বাড়তে পারে। তখন দাম কমে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।